বাকের সরকার বাবর।।
দেশের ৬৪টি জেলায় ছোট-বড় পর্যটন স্পট রয়েছে ১ হাজার ৬৭৫টি। এর মধ্যে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটের সংখ্যাও প্রায় শতাধিক। এসব স্পটে পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ‘ট্যুরিস্ট পুলিশ’ ইউনিটের প্রায় ১ হাজার ৩০৪ জন সদস্য। হিসাব অনুযায়ী প্রতিটি স্পটের জন্য গড়ে একজন করে ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যও নেই। এ ছাড়া পর্যটন স্পটগুলোতে ২৪ ঘণ্টায় পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা দিচ্ছেন তারা। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ধরে রাখতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আর নিরাপত্তার জন্য দরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল ও আবাসন ব্যবস্থাসহ নানা স্থাপনা। কিন্তু সে অনুসারে ট্যুরিস্ট পুলিশের নেই যথেষ্ট জনবল ও স্থাপনা।
বান্দরবানে ট্যুরিস্ট পুলিশের যাত্রা ২০১৫ সালে। বান্দরবান জেলা পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায় সেখানে তাদের দেয়া স্থাপনায় ট্যুরিস্ট পুলিশের রিজিয়ন ও জোন অফিসের কাজ পরিচালিত হচ্ছে। গত বছর জুলাই মাসে সেখানে পুলিশ সুপার পদ মর্যাদার একজন কর্মকর্তা দেয়াই ট্যুরিজম বিকাশে ও ট্যুরিস্টদের নিরাপত্তায় কাজের গতি সঞ্চারিত হয়। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের প্রচেষ্টায় এই অর্থ বছরে জেলা পরিষদের উন্নয়ন বাজেটের কর্মসূচীতে ট্যুরিস্টদের সহায়তার জন্য দুতলা ভবন নির্মানের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ইতিমধ্যে উক্ত পুলিশ সুপারের একান্ত ইচ্ছায় ও পরিকল্পনায় জাতির পিতার ভাস্কর্য অফিস সম্মুখে স্থাপিত হয়, যা বান্দরবানে কোন অফিসে প্রথম ভাস্কর্য।
আনুমানিক অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত হবে দুতলা বিশিষ্ট নান্দনিক ট্যুরিস্ট সহায়তা কেন্দ্র অফিস। আজ সকাল ১০.৩০ এ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল হালিম কর্তৃক কাজের উদ্বোধন করেন। আরো উপস্থিত ছিলেন এলজিইডি প্রকৌশলী জনাব জিয়াউর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ।
ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার বলেন, সহকারী উপপরিদর্শক থেকে পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা তদন্ত কাজে মাঠে থাকবেন। তদন্তের জন্য তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের আওতাধীন বর্তমানে তিনটি থানায় ট্যুরিস্ট নিরাপত্তায় ২৪ ঘন্টা কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে ট্যুরিস্ট পুলিশ হলো ‘হোস্ট’, আর পর্যটকরা হলেন ‘গেস্ট’। সেক্ষেত্রে নিরাপত্তার পাশাপাশি ভাষাগত ব্যবহার থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হয় ট্যুরিস্ট পুলিশকে। সেই আলোকে এই ভবন নির্মান ও ট্যুরিস্ট সেবায় এই ভবন থেকে নানা কার্যক্রম গ্রহণ করা সহজতর হবে।
Leave a Reply